বিজ্ঞাপন দিন

রিমিঝিমি বৃষ্টিপাত | আমজাদ হাবীব


বৃষ্টি পড়ার পূর্বে প্রকৃতি বিভিন্ন নিদর্শন প্রকাশ করে। বহুল রং ধারণ করে তখন সে। প্রকৃতিদাতার অলৌকিক জৌলুস যেন, তাঁর এ সৃষ্টির মাঝে পরিপূর্ণ রূপ নিয়ে সেজেগুজে মন্থর পায়ে এগোতে থাকে। আর তার আগমনে চারপাশ শান্ত ও প্রশান্ত বহন করে। দিগন্ত ভরে ঘোলাটে হয়ে আসে, শুভ্র-নীল আকাশে পাংশুল বর্ণ ছেয়ে পড়ে, অচেনা অজানা পথ বেয়ে তীব্র বায়ু এসে ভর করে গাছগাছড়া আর ঝোপঝাড়ের মাথার ওপরে। 

লোকজনের হৈচৈ, চিল্লাচিল্লি তখন থেমে যায়, চারিদিকে তখন নিরবতা অনুভূত হয়। আর শুধু বৃষ্টিপাতের রিমিঝিমি শব্দ শোনা যায়। রাস্তার পিচঢালা থেকে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে চলে যায় নদমায়। গড়ানো পানির ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে সৃষ্টি করে রিমিঝিমি শব্দের আরেক ‘মধুরতা’। মৃদু বৃষ্টিপাতের ফলে প্রকৃতি তখন সে নিজেকে খুঁজে পায় নির্মলতার মাঝে; তার সর্বত্র ছেয়ে যায় পরিচ্ছন্নতা এবং শুভ্রতা। এরকম পরিবেশকে বোধহয় বলা হয় ‘নির্মল পরিবেশ’। 

শহরের রাস্তা গুলো বৃষ্টির পানিতে চিকচিক করতে থাকে, চকচকে রাস্তার উপরে গাড়ি চলার ছাপ স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়। গাড়ি চলাচলের শোঁশোঁ আওয়াজে কর্দমাক্ত পথ ভিন্ন চাপাস্বর সৃষ্টি করে। হাট-বাজার, পথঘাট, দোকানপাটগুলোর মধ্যে এর পরে ধীরে ধীরে মানুষের সমাগম হতে থাকে। 

আর পরিচ্ছন্ন আকাশ, নির্মল ভূমি, শোধিত বৃক্ষলতা হৃদয়কে তখন বিপুল মোহিত করে। আমরা হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারি, হৃদয়ের মাঝে তখন কোমলতা অনুভব করি। চারিপাশে এক শীতল বাতাস বয়ে যায় এবং সে বাতাস গায়ে লেগে শীতলতা অনুভূত হয়। আর এর পরশে চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে আসে; হৃদয়ে চেপে বসে সৃষ্টি কর্তার মাহাত্ম্য ও তার সৃষ্টির বৈচিত্র। 

মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

নবীনতর পূর্বতন