জীবনের আনন্দময় একটি অধ্যায়ের নাম শৈশবকাল। শৈশবের খেলাধুলা, দুষ্টুমি আর দুরন্তপনা সবার মনে গেঁথে থাকে জীবনভর। শৈশব সবার জীবনে আসে। প্রত্যেকের হৃদয় জানালায় লেপটে থাকে শৈশবের রং। স্মৃতির ক্যানভাসে জমা থাকে শৈশবীয় অমলীন স্মৃতি।
শৈশব মানে সেই রোদমাখা দিনগুলো, যার শুরু হতো মক্তবের আঙিনাতে আলিফ-বা-তা পড়া দিয়ে আর শেষ হতো মজার মজার গল্প শুনে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গিয়ে।
শৈশব মানে সারাদিন দিনমান কোনো না কোনো খুনসুটিতে মেতে থাকা, নিরব দুপুরের গুলাল নিয়ে পাখি শিকারে বেরিয়ে পড়া, রহিম চাচার বড় বড়ই গাছটিতে ঢিল ছুঁড়ে বড়ই নিয়ে পালিয়ে যাওয়া, ধান ক্ষেতে গর্ত থেকে ইঁদুরের চুরি করা ধান এনে জোলাভাতির আয়োজন করা,আরো কত কী!
বর্ষাকালে আকাশে মেঘের গুড়ুম গুড়ুম শব্দ শোনে আনন্দে মেতে ওঠা, ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দৌঁড়ে চলা, শীতের সকালে শিশিরসিক্ত ঘাসের ওপর হেঁটে চলা, শুকনো পাতা জমিয়ে আগুন ধরিয়ে চারপাশে গোল হয়ে বসা। গ্রীষ্মের দুপুরে সারা পুকুর দাপিয়ে সাঁতরানো, ঝড়ের দিনে প্রবল আনন্দে আম-জাম কুড়ানো, বসন্ত কিংবা ফাগুনের দখিনা হাওয়ায় ঘুড়ি ওড়ানো। এসব কিছুহারানো শৈশবের খন্ড খন্ড চিত্র, টুকরো টুকরো বিস্মিত অতীত।
জীবন অধ্যায়ের এই সময় গুলোতে থাকে না কোন পড়ালেখার চাপ, থাকে না ধরা বাধা কোন নিয়মের আড়ষ্টতা, বিধি নিষেধের কোনো বেড়াজাল। দিনমান ইচ্ছামতো ছোটাছুটি আর সীমাহীন খুনসুটির ওই দিনগুলোর কথা মনে হলে মাঝেমধ্যে নিজের অজান্তে হৃদয় গহীনে উচ্ছ্বাসের বন্যা বয়ে যায়। স্মৃতিপটে আনন্দের দোলা দেয়। আনমনা হয়ে ভাবি, কোথায় পাবো বিকেলের মাছ ধরার মজা, কাদায় গড়াগড়ি করার উল্লাস, কানামাছি, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা, গাছ বন্দর, লুকোচুরি আর বউচি খেলার গ্রামীণ আনন্দ?
আজ নিয়মতান্ত্রিকতার এই তারুণ্যে এসে যাপিত জীবনের যান্ত্রিকতায় বারংবার পৃষ্ঠ হতে গিয়ে বড্ড বেশি মনে পড়ে মহাকালের চোরাবালিতে ঢাকা শৈশবের সেই স্মৃতিগুলোর কথা! হৃদয় থেকে কেবল আকুতি ঝরে, যদি যেতে পারতাম শৈশবের সেই সোনায় মোড়ানো দিনগুলোতে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য লিখুন