বিজ্ঞাপন দিন

দিনলিপির পাতা থেকে | মাহমুদ হাসান



নিস্তব্ধ বিকেল। চারিদিকে নিস্তেজ হয়ে আসা সূর্যের নিভু নিভু আলো। জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছি উদাস মনে। আজ সম্ভবত জিলক্বদ মাসের শেষ দিন। তাহলে কি আর একটু পরে দেখা যাবে চিকন হেলাল! নতুন চাঁদের কথা ভাবতেই দেহ মনে একটা তন্ময়তা ছেয়ে গেল। এইতো কয়েকদিন আগে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখেছি। এত তাড়াতাড়ি আবার ঈদুল আযহা চলে আসলো। সময়ের এ যোগ বিয়োগ মিলাতে মিলাতেই একদিন মৃত্যু এসে জীবনের দরজায় কড়া নাড়বে। জীবন কত ছোট কত ছোট, কত ক্ষুদ্র!

***


মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে চাঁদ দেখার হিড়িক পড়ে গেল সবার মাঝে। আমি দেখলাম, ছোট ডিঙ্গি নৌকার মতো হালকা বাঁকানো একটি চাঁদ। কি সুন্দর! কি শুভ্র! মনে মনে পড়ে নিলাম নবীজির শেখানো দোয়া, ‘হে আল্লাহ আপনি তা উদিত করুন, আমাদের মাঝে নিরাপত্তা, শান্তি, ঈমান ও ইসলাম সহকারে’। চারিদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে মৃদু এক আমেজ তৈরি হয়েছে। যদিও ঈদ দশ দিন পরে, তবুও হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট সর্বত্রই পরিলেখিত হচ্ছে ঈদকেন্দ্রিক নানা আয়োজন। ঈদ বয়ে আনুক সবার জীবনে অনাবিল সুখ আর শান্তি।

***


আজ ঈদ! দু’দিন আগেই বাবা মোটাতাজা একটা ষাড় কিনে রেখেছিলেন। যথা সময় ঈদের নামাজ আদায় শেষে বাবা পশুটা জবেহ করলেন। পালিত হলো ইব্রাহিমী সুন্নত। পশুটার জন্য মায়া লাগলো, তবে পরপরই কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল মন। আসলে কুরবানী যদি হয় নিরেট রাব্বে কারিমের জন্য, তাহলে অদৃশ্য থেকে অন্তরে প্রশান্তির ফোয়ারা প্রবাহিত হয়। বাবা গোস্ত ভাগ-বাটোয়ারা  করে অধিকাংশই বিতরণ করলেন দুঃস্থ-অসহায় মানুষদের মাঝে। সে সময় তাদের চোখে মুখে যে আনন্দের ঝিলিক লক্ষ্য করেছি তা আসলেই অুুলনীয়। ঈদের প্রকৃত সুখ তো এখানেই নিহিত। প্রতিটি সচ্ছল মানুষের ঈদ হওয়া উচিত অসচ্ছল মানুষের আনন্দের মাঝে।

***


আসর নামাজ আদায় করে বন্ধুদের সাথে ঘোরাফেরা করলাম। আসলে এখন আর আগের মত অকৃত্রিম ঈদের আনন্দটা পাওয়া যায় না, শৈশব-কৈশোরের ঈদগুলোতে এক অন্যরকম আচ্ছন্নতা ছিল, ভিন্ন রকম মুগ্ধতা ছিল যা এই তারুণ্যে এসে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আর আগের মত কেউ ঈদকার্ড দেয় না, কেউ আর আগের মত স্নেহ করে সালামি দেয় না। বড় হলে বুঝি এমনই হয়।

***


রাতে বাসায় পরিবারের সকলে একসাথে বসে অনেক গল্প গুজব করলাম। আব্বু আম্মু তাদের প্রায় একযুগ আগে আদায়কৃত হজ্জের স্মৃতিচারণ করলেন। শুনলাম এবং এক অদ্ভুত তন্ময়তায় আচ্ছন্ন হলাম!! আদতে হজ্ব তো আল্লাহ প্রেমিকদের শ্রেষ্ঠ প্রেমাভিসার। বাইতুল্লার মুসাফির হওয়া তো আমার জীবনে লালিত স্বপ্নগুলোর একটি। আল্লাহ তাআ’লা আমাদেরকে কবুল করুন।

***


এখন রাত একটা বেজে কুড়ি মিনিট; ঘুমানোর কক্ষে একা একা বসে লিখছি। কোথাও কেউ নেই, কিচ্ছু নেই, একটা নিঃসীম শূন্যতা অনুভব করছি প্রকটভাবে। আমি আসলে কিছুটা আত্মমগ্ন মানুষ। হঠাৎ করেই স্মৃতিকাতরতা এসে আমাকে ঝেঁকে ধরে, শুরু হয় অতীত রোমন্থন। এই যে এখনো আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে অতীতের বিস্মৃত ঈদ। কত তাড়াতাড়ি দিনগুলো হারিয়ে গেল। ভাবতে ভাবতে চোখগুলো ঝাপসা হয়ে ওঠে। স্মৃতি কত অদ্ভুত; যেমন হাসাতে পারে তেমন পারে কাঁদাতেও।

মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

নবীনতর পূর্বতন