বিজ্ঞাপন দিন

জীবনের অমানিশা | সাকিবুল ইসলাম



পড়ন্ত বিকেলে উড়ন্ত পাখিরা নীড়ে ফেরার জন্য যে ডানা ঝাঁপটিয়েছে সে ডানা যদি আমার থাকত তবে এ জনপদকে আমি বহু আগেই বিদায় জানাতাম। জীবনের বাকি সময়টুকুর জন্য বেছে নিতাম জনমানবশূন্য কোনো এক অজানা পথ। কেন আজ বহুকাল পর সহসা মন অরণ্যে সব অসম্ভব কথা কড়া নাড়ছে? কেনই বা হঠাৎ জনমানবশূন্য জনপদ খোঁজার প্রতি মন উদ্বুদ্ধ হচ্ছে জানি না! 


জীবনের এই চাওয়াটা বাস্তবতার দন্ডে কতটুকু গৃহীত? বাস্তবিক অর্থে এই সকল চাওয়ার কোনো উত্তর হয় না। এ জীবনের চাওয়াটা কী। জীবনপথের একজন ক্ষুদ্রতম পথিক হিসেবে দুঃসাহস কার এতটুকু শুধু বলতে পারে। প্রত্যেকের একটি অতীত আছে। সে অতীত কারোটা সুখের, কারোটা দুঃখের। সুখের অতীতগুলো ভবিষ্যৎ পাড়ি দেওয়ার জন্য যে কতটা পাথেয় তা তো সেই জানে যে অতীতের দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খেয়ে যাচ্ছে। অথবা অতীতের দুঃখের মরুতে পিপাসিত পথিক হয়ে মরীচিকার পানে ছুটছে।


জানি না, আমার জীবন ভাগে কোনটি জুটেছে। তবে সুখগুলো বহু আগে আমাকে উপেক্ষা করে বিদায় জানিয়েছে। আর দুঃখরা আমার আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে গিয়েছে। খুব মনে পড়ে অতীতের সেই স্মৃতি; যেখানে ছিল একরাশ প্রীতি। কিন্তু আজ স্মৃতিরা প্রীতিকে বিদায় জানিয়ে দুঃখকে খুব অনুষ্ঠান করে দাওয়াত দিয়ে নিজেরা বন্ধুত্ব করে নিয়েছে। পরক্ষণে জীবন বৃক্ষে নেমে এসেছে সাইক্লোন নামক এক বিপর্যয়। 


জানি না, ব্যস্ত নগরীর অলিগলিতে এই বিপর্যয়ের স্বীকার কতজন? জানি না, এই বিপর্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কত জীব তার জীবন হারিয়েছে? তবে এতটুকু জানি, হয়তো এই বিপর্যয়ই একদিন আমার জীবনকে নিঃশেষ করে দিবে। হয়তো সেদিন আমার জীবন নিয়ে কত কথা শোনা যাবে! কিন্তু কেউ কি উন্মোচন করতে পারবে জীবনে এই রহস্য? কেউ কি তার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে পারবে? পারবে কি জীবনের এই অমানিশা দূর করতে? শুধু থেকে যাবে অন্ধকার! 


থেকে যাবে জীবনের এই পথচলা একাকার!!

মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

নবীনতর পূর্বতন